বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ জুন ২০২০

বিনাধান-২৪

 

জাতের নামঃ
বিনাধান-২৪
জাতের বৈশিষ্ট্যঃ

উচ্চ ফলনশীল, স্বল মেয়াদি (জীবনকাল ১৪৩-১৪৫ দিন), আলোক অসংবেদনশীল এবং লম্বা ও মাঝারি চিকন দানা বিশিষ্ট ।

ধান পরিপক্কতা অবস্থায়ও ডিগপাতা গাড় সবুজ ও খাড়া থাকে ।

গাছ শক্ত বলে মোটেই হেলে পড়ে না। পূর্ণ বয়স্ক গাছ ৯৫-৯৭ সে. মি. লম্বা।

জমি ও মাটিঃ
লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সকল বোরো অঞ্চলে জাতটির চাষাবাদ করা যায়।

জমি তৈরীঃ

জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উফশী বোরো জাতের মতই।
বপণের সময়ঃ
নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে চতুর্থ সপ্তাহের (১-১৫ অগ্রহায়ণ) মধ্যে বীজ তলায় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
বীজ হারঃ
প্রতি হেক্টর জমি চাষের জন্য ২৫-৩০ কেজি বা এক একর জমির জন্য ১০-১২ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।
বীজ শোধনঃ
উপযুক্ত ফলন নিশ্চিত করতে হলে পুষ্ট ও রোগবালাই মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। প্রতি ১০ কেজি বীজ শোধনের জন্য ২৫ গ্রাম ভিটাভ্যাক্স-২০০ ব্যবহার করলে ভাল হয়।
সার ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

উর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে বীজতলা তৈরী করলে কোন রূপ সার প্রয়োজন হয়না। অনুর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে  কেবল দুই কেজি পঁচা গোবর বা আবর্জনা সার প্রয়োগ করলেই চলে। চারা গজানোর পর গাছ হলুদ হয়ে গেলে  দু’সপ্তাহ পর প্রতিবর্গ মিটারে ৭ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পর জমি থেকে পানি নিষ্কাশণ করা যাবে না।

প্রতি হেক্টরেঃ

ইউরিয়াঃ  ২৩০-২৫০  কেজি, টিএসপিঃ ১১০-১২০ কেজি, এমওপিঃ ৬০-৮০  কেজি, জিপসামঃ ৪৫-৫০ কেজি ও দস্তা: ৩.০-৪.০ কেজি।

প্রয়োগের নিয়মঃ
রোপার জন্য জমি তৈরীর শেষ চাষের আগে সম্পূর্ণ টিএসপি এবং  অর্ধেক এমওপি জমিতে সমভাবে ছিটিয়ে চাষের মাধ্যমে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সার অর্ধেক ও এমওপি সারের এক চতুর্থাংশ পরিমাণ চারা রোপনের ১০-১২ দিন পর, এবং বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি সারের অবশিষ্ট এক চতুর্থাংশ ২৫-৩০ দিন পর জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার প্রয়োগের ২/১ দিন আগে জমির  অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আগাছা দমন করতে হবে। জমির উর্বরতা ও ফসলের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া সার প্রয়োগমাত্রার তারতম্য করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে টিএসপি ও দস্তা সার একই সাথে প্রয়োগ করা যাবেনা। তাই এক্ষেত্রে এক চাষ পূর্বে টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে এবং শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার ছিটিয়ে প্রয়োগ করা অবশ্যক।
সেচ ও নিষ্কাশনঃ
থোড় অবস্থা থেকে দুধ অবস্থা পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। ধান পাকার ১০-১২ দিন আগে জমির পানি শুকিয়ে ফেলা ভাল।
আগাছা দমন ও মালচিংঃ
চারা রোপনের পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী বা হাতের সাহায্যে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি নরম করতে হবে ।
বালাই ব্যবস্থাপনাঃ
জাতটি বিভিন্ন রোগ যথা-পাতা পোড়া, খোল পোড়া, খোল পঁচা, ইত্যাদি রোগ তুলনামূলকভাবে প্রতিরোধ করতে পারে। মাজরা পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং বাদামী গাছ ফড়িং ইত্যাদি পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ও তুলনামূলকভাবে বেশী। রোগবালাই ও কীট পতঙ্গের আক্রমণ দেখা দিলে নিকটস্থ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার উপদেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মাজরা পোকার আক্রমন এর সম্ভাবনা থাকলে দানাদার কীটনাশক (রাজধান-১০জি)প্রথম কিস্তি ইউরিয়া সারের সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে । তবে যদি মাজরা পোকা আক্রমন হয়েই থাকে সেক্ষেত্রে ভিরতাকো স্প্রে করতে হবে। পাতা পোড়া এর লক্ষণ দেখা দিলে বিসমার্থিওজল গুপের (ব্যাকট্রেল)২ গ্রাম/লিটার হিসেবে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য ট্রুপার একর প্রতি ১৫০ মিলি হারে ২০০ লিটার পানিতে সেপ্র করা যেতে পারে। খোল ঝলসানো বা সিথব্লাইট রোগ দেখা গেলে ফলিকুর (টেবুকোনাজল) বা স্কোর (ডাইফেনোকোনাজল) একর প্রতি ২০০ মিলি হারে ২০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে থোর আসার সময় বা তার পরপরই সেপ্র করা যেতে পারে। পোকামাকড় দমনের জন্য আইপিএম পদ্ধতিই সবচেয়ে ভাল । 
ফলনঃ
গড় ফলন ৬.৫ টন/হেক্টর এবং সর্বোচ্চ ফলন ৯.০ টন/হেক্টর ।

 

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

ধান ফসল বিশেষজ্ঞ
(সকাল ৯ টা-বিকাল ৫টা)
কল করুনঃ ০১৭৫৬৯২৬৬৮০
ই-মেইলঃ imtiazukm@gmail.com


দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও পদবী
ড. মোঃ ইমতিয়াজ উদ্দিন
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান
বায়োটেকনোলজি বিভাগ, বিনা, ময়মনসিংহ-২২০২।

 

 


Share with :

Facebook Facebook