কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ এ ১০:৫৬ AM

বিনা ধান২৮

কন্টেন্ট: পাতা

জাতের নামঃ

বিনা ধান২৮

জাতের বৈশিষ্ট্যঃ

  • উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন ধানের একটি উন্নত জাত।
  • এ জাতে সুগন্ধির জন্য দায়ী badh2 জিন এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী Pi9 জিন বিদ্যমান।
  • চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৭.৪২%, ফলে রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয়। ভাত সাদা, আকর্ষণীয় এবং অত্যন্ত সুস্বাদু।
  • রান্নার পর ভাত ১৮-২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে এবং সহজে নষ্ট হয় না। ফলে সারা দেশে, বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং খাতে, এ জাতের চালের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে।
  • চালে জিংকের পরিমাণ ২৪.৮৩ মি.গ্রা./কেজি, যা শিশুদের বুদ্ধিবিকাশ এবং গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক।
  • বাজারে উচ্চমানের সুগন্ধি চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও ঘাটতি কমাতে এ জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
  • জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন

জমি ও মাটিঃ

লবণাক্ত এলাকা ছাড়া এবং মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমিতে দেশের সকল অঞ্চলে এঁটেল, এটেল দো-আশ ও দো-আশ মাটিতে এ জাতটি চাষ উপযোগী।

জমি তৈরীঃ

জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উফশী রোপা আমন জাতের মতই।

বীজের হারঃ

প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫-৩০ কেজি বা একর প্রতি ১০-১২ কেজি এবং বিঘা প্রতি ৩-৪কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

বপনের সময়ঃ

১৫ জুন হতে ৭ জুলাই ১-২৩ আষাঢ়) মধ্যে বীজ তলায় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজ শোধনঃ

উপযুক্ত ফলন নিশ্চিত করতে হলে পুষ্ট ও রোগবালাই মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। প্রতি ১০ কেজি বীজ শোধনের জন্য ২৫ গ্রাম ভিটাভ্যাক্স-২০০ ব্যবহার করলে ভাল হয়।

সার ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

বীজতলার জন্য

বীজতলা তৈরির সময় প্রতি বর্গমিটারে ২–২.৫ কেজি বা প্রতি শতাংশে ৮০–১০০ কেজি পঁচা গোবর বা জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। জমি কম উর্বর হলে শেষ চাষের সময় প্রতি বর্গমিটারে ১০–১৫ গ্রাম TSP ও ১০ গ্রাম MoP অথবা প্রতি শতাংশে ৪০০–৬০০ গ্রাম TSP ও ৪০০ গ্রাম MoP মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। চারা গজানোর ১০–১২ দিন পর বা চারার রঙ হালকা হলুদ হলে প্রতি বর্গমিটারে ৫ গ্রাম বা প্রতি শতাংশে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের সময় বীজতলায় সামান্য পানি রাখতে হবে, তবে চারাগুলো যেন পানির নিচে তলিয়ে না যায়।

উর্বরতা অনুসারে ইউরিয়া মাত্রা কম বেশি হতে পারে

সারের নাম

সারের পরিমাণ কেজি)

হেক্টর প্রতি

একর প্রতি

বিঘা প্রতি

ইউরিয়া

৯৫-১০০

৩৮-৪০

১৩-১৪

ডিএপি

১০০-১০৫

৪২-৪৪

১৩-১৪

এমওপি

১১০-১১৫

৪৫-৪৬

১৫-১৬

জিপসাম

৭৫-৮০

৩০-৩২

১০-১১

দস্তা

১-১.৫

০.৫-০.৬

০.২-০.২৫

প্রযোগের নিয়ম

জমি তৈরির শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ ডিএপি, জিপসাম ও দুই-তৃতীয়াংশ এমওপি জমিতে সমভাবে ছিটিয়ে চাষের মাধমে মাটির সাথে ভলোভাবে মিশাতে হবে। রোপণের ৮০-৮৫ দিন পর বাকী এক তৃতীয়াংশ এমওপি ইউরিয়া এর সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা) (৩৩ শতক= ১ বিঘা):
জমি তৈরির সময়:ডিএপি (১৪কেজি), জিপসাম (১০কেজি) ও ১০কেজি এমওপি।

উপরি সার প্রয়োগ: চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর ৮ কেজি ইউরিয়া, ৫৫-৬০ দিন পর ৩ কেজি ইউরিয়া এবং রোপণের ৮০-৮৫ দিন পর ৫কেজি এমওপি এর সাথে ২ কেজি ইউরিয়া মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার প্রয়োগের ২/১ দিন আগে জমির অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আগাছা দমন করতে হবে। জমির উর্বরতা ও ফসলের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া সার প্রয়োগমাত্রার তারতম্য করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে ডিএপি ও দস্তা/ জিপসাম সার একই সাথে প্রয়োগ করা যাবেনা।

সেচ ও নিষ্কাশনঃ

চারা রোপনের পর জমিতে ৩-৫ সেমি পানি রাখতে হবে এবং ৭ দিন পর থেকে ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত AWD পদ্ধতিতে পানি ব্যবস্থাপনা করলে কুশি বেশি হয় ও সেচ খরচ কমে। থোড় থেকে দুধ অবস্থা পর্যন্ত জমিতে রস বজায় রাখতে হবে এবং ধান পাকার ১০-১২ দিন আগে জমি শুকিয়ে ফেলতে হবে।

আগাছা দমন ও মালচিং

চারা রোপনের পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী যন্ত্র বা হাতে পরিষ্কার করতে হবে এবং ইউরিয়া প্রয়োগের পর আগাছা মাটিতে পুঁতে দিলে তা সার হিসেবে কাজ করবে। প্রথম ৩০-৪০ দিন জমি আগাছামুক্ত রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। জমিতে ১০-১৫ সেমি পানি রাখলে আগাছার উপদ্রব কমে। প্রয়োজনে সুপার পাওয়ার ১০ ডব্লিউপি, রিফিট, সাথী ১০ ডব্লিউজি (২০ গ্রাম/বিঘা) বা সানরাইজ ১৫০ ডব্লিউজি (১৪ গ্রাম/বিঘা) ব্যবহার করা যাবে।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ

পোকা/রোগের নাম

বালাইনাশক

প্রয়োগ মাত্রা (প্রতি লিটার)

মাজরা পোকা/পাতা মোড়ানো পোকা

ইনসিপিয়ো ২০ এসসি বা ভায়াগো ২০ এসসি, বেল্ট এক্সপার্ট

০.৫ মি.লি

কার্টাপ্রিড এসপি অথবা

১ গ্রাম

ভির্তাকো ৪০ ডব্লিউজি অথবা

০.৫ গ্রাম

লক্ষীর গু’ বা ‘ভূয়াঝুল’ রোগ

অটোস্টিন৫০ডাব্লউডিজি বা নোইন

১ গ্রাম

ধানের ব্লাস্ট রোগ +ধানের শীষ ব্লাস্ট

নাটিভো ৭৫ ডব্লিউপি

০.৫ গ্রাম

ট্রুপার ৭৫ ডব্লিউপি

০.৫ গ্রাম

খোলপঁচা রোগ

নাটিভো ৭৫ ডব্লিউপি

০.৫ গ্রাম

পাতা পোড়া রোগ

কাইসিন৮০ ডব্লিউজি

১ গ্রাম

ব্যাকট্রোবান২০ ডব্লিউপি

২ গ্রাম

হেক্টর প্রতি ফলনঃ

গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৬.৫০ টন এবংসর্বোচ্চ ফলন ৭.০০ টন।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন ধান ফসল বিশেষজ্ঞ

(সকাল ৯ টা-বিকাল ৫টা)

কলকরুনঃ +৮৮০১৭০১৭৬৫৩৭৯

ই-মইেলঃ mahmudag60@yahoo.com

দায়িত্বপ্রাপ্ত র্কমর্কতার নাম ও পদবী

ড. মো. মাহমুদুল হাসান

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ, বিনা, ময়মনসিংহ-২২০২

ফাইল ১
ফাইল ২

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ২

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন