কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১২:১০ PM

বিনা কালজিরা১

কন্টেন্ট: পাতা

জাতের নামঃ বিনা কালোজিরা ১

জাতের বৈশিষ্ট্যঃ বিনা কালোজিরা১ উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের গাছের অকার মাঝারি লম্বায় ৬০-৬৫ সে.মি., শাখা প্রশাখার সংখ্যা ১২-১৫ টি । প্রতি গাছে পডের সংখ্যা গড়ে ৩৫-৪৫ টি, বীজ প্রচলিত জাতের তুলনায় বড়। জীবনকাল ১১৭-১২০ দিন।

জমি ও মাটিঃ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন বেলে দোআঁশ থেকে দোআঁশ মাটি করার চাষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সব মাটিতেই বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা যেতে পারে। জলাবদ্ধতা সহ্য করার ক্ষমতা কম। খরা মৌসুমে সেচ প্রদান করে চাষ করা যায়। শুকনা ও ঠাণ্ডা আবহাওয়া কালিজিরা আবাদে খুব অনুকূল। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া বালাইয়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফুল ফোটার সময় বৃষ্টি হলে কালজিরার ফলন কমে যায়।

জমি তৈরীঃ ৩ থেকে ৪টি চাষ ও আড়াআড়ি মই দিয়ে মাটি ঝুরাঝুরে করা এবং আগাছা পরিষ্কার করে জমি সমতল করে বীজ বপন করতে হয়।
বপণের সময়ঃ বাংলাদেশে রবি মৌসুমে ( মধ্য অক্টোবর-মার্চ) কালজিরার চাষ হয়ে থাকে।

বীজ হারঃ সারিতে রোপন করা উত্তম। ছিটিয়ে বপন করলে প্রতি হেক্টর ৮-১০ কেজি। সারিতে চারা রোপন করলে (১৫×১০ সে.মি. দূরত্বে) প্রতি হেক্টরে ৪-৬ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

বীজ শোধনঃ বীজ বপনের আগে আলাদা করে শোধনের দরকার নেই। তবে বোনার আগে ভালো করে ধুয়ে ধুলাবালি ও চিটা বীজ সরিয়ে নেয়া ভালো। ভেজা বীজ বপন করা উচিত না।

সার ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ:

পচা গোবর: :৫-১০ টন, ইউরিয়া: ১২৫ কেজি, টিএসপি: ১০০ কেজি এবং এমওপি: ৭৫ কেজি।

প্রয়োগ পদ্ধতি:

জমি চাষের পূর্বে সম্পূর্ণ পঁচা গোবর সার ছিটিয়ে দিতে হবে। অর্ধেক ইউরিয়া, সম্পূর্ণ টিএসপি ও এমওপি সার শেষ চাষের আগে জমিতে ছিটিয়ে ভালভাবে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া সার বীজ বপনের ৩৫-৪০ দিন পর আগাছা বাছাইয়ের পর উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে প্রয়োজনীয় রস না থাকলে সার উপরিপ্রয়োগের পর সেচ দেওয়া ভালো। জমিতে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ কালোজিরা সহজে তেমন কোনো পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয় না। বরং এর স্বাভাবিক পোকামাকড় ধ্বংসের ক্ষমতা আছে। রোগবালাইয়ের প্রার্দুভাব নেই। মাঝে মাঝে কিছু ছত্রাক আক্রমণ দেখা দিলে রিডোমিল গোল্ড বা ডাইথেন এম ৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ২-৩ বার ১০ দিন জমিতে স্প্রে করতে হবে।

হেক্টর প্রতি ফলনঃ উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ জাতটি হেক্টর প্রতি প্রায় ১.২ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন ধান ফসল বিশেষজ্ঞ

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন